জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরের মধ্যেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যানহাটনে একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক ম্যানহাটনে বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে উঠেছেন, ঠিক তার কাছাকাছি এলাকা থেকে স্যুটকেসটি পাওয়া যায় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই হোটেলটির চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই কঠোর করে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট এবং থার্ড অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় কালো স্যুটকেসটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। আশপাশের বেশ কিছু ব্লকে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্যুটকেসটিতে বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর কিছু আছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করেন নিরাপত্তা কর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

স্যুটকেস উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা সমন্বয়কারীরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেলের প্রবেশপথে অতিরিক্ত তল্লাশি চালু করা হয়েছে। হোটেলের ভেতরেও নিরাপত্তা প্রটোকল নতুন করে সাজানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বৈঠকের ফাঁকে এই ঘটনা প্রতিনিধিদলের জন্য বাড়তি সতর্কতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ঠিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত স্যুটকেসটি থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির প্রমাণ পাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই উত্তেজনার মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকাল এই চাপ বহন করতে পারে না। ম্যানহাটনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁর নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।