আসন্ন শীত মৌসুমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কমাতে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে শীতে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। ঠান্ডাজনিত রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে দেশের অন্তত ৫০টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা চালু করা হবে। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার প্রাথমিক পরামর্শ একদম বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বয়স্ক ও দিনমজুরদের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকবে, যেখানে কোনো লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যাবে।

কোন কোন পরীক্ষা পাবেন বিনামূল্যে?

শীতকালে সাধারণত শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ঠান্ডাজনিত জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। তাই এবারের আয়োজনে বুকের এক্সরে, রক্তের শর্করা মাত্রা নির্ণয় এবং ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ পুষ্টি পরামর্শ কেন্দ্রও খোলা হবে।

হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিকেও এই সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতকালীন সতর্কতামূলক পরামর্শ বিতরণ করবেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিকিৎসকের কাছে যাননি, তাদের চিহ্নিত করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শীতে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে কীভাবে নাম দেবেন?

এই সেবা পেতে আলাদা করে আগে থেকে কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখালেই একটি টোকেন দেওয়া হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিদিন এই বিশেষ কাউন্টারগুলো খোলা থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় এই কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার পরিসর বাড়ানো হচ্ছে।

অনেকেই জানতে চান, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কি এমন সুবিধা মিলবে? আপাতত এই কার্যক্রম শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তবে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে খবর পাওয়া গেছে।

প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে?

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শীতকালীন রোগের দ্রুত শনাক্তকরণ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় মেডিকেল স্টোর থেকে জেলা পর্যায়ে সরবরাহ শুরু হয়েছে।

শীত পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসার আগেই এই কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।