গাজা সিটির পৌর পুলিশ সদর দপ্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এই হামলাটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঘটনাগুলোর একটি।
নিহতদের পরিচয় বা তারা বেসামরিক নাকি পুলিশ সদস্য, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দাবি সামনে এনেছে। তাদের ভাষ্যমতে, গাজা সিটির ওই পুলিশ সদর দপ্তরে এবং উপত্যকার আরও দক্ষিণে চালানো অপর একটি হামলায় মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন হামাসের একজন কমান্ডার। অর্থাৎ, ৯ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই অভিযানটিকে ইসরায়েল সরাসরি সামরিক অপারেশন হিসেবেই চিহ্নিত করছে।
ইসরায়েলি দাবি বনাম গাজার বাস্তবতা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই দাবির সত্যতা যাচাই করার কোনো সুযোগ আপাতত স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর নেই। গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে সাংবাদিকদের সরাসরি ঘটনাস্থলে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে ওই পুলিশ সদর দপ্তরে আসলে হামাসের কোনো শীর্ষ নেতা অবস্থান করছিলেন কি না, নাকি এটি ছিল নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যালয় — সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট।
এনটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই হামলার পাশাপাশি গাজার দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী আলাদা আরেকটি অভিযান চালিয়েছে। দুটি হামলাই একই দিনে সমন্বিতভাবে চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল হামাসের কমান্ড কাঠামোকে দুর্বল করা।
দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনায় প্রভাব পড়বে কি?
এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘমেয়াদি গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এমন প্রাণঘাতী হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে কতটা ব্যাহত করবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে।
গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়ার উপক্রম। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটের মধ্যে প্রতিদিনের এই হামলা আহতদের চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে, যাতে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ইসরায়েলি বাহিনী যদি হামাস কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এমন নির্দিষ্ট হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে গাজা সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযানের ধরন বদলাচ্ছে না। এই ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা সেই অচলাবস্থারই আরেকটি নির্মম প্রমাণ, যা শান্তি পরিকল্পনার টেবিলে বসা পক্ষগুলোর জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করবে।
মন্তব্য
0