গত এক সপ্তাহে দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য অভিযান চালিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়ের করা হয়েছে ৬টি মামলা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ মেলে। আমার সংবাদ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবার টেবিলে কী ধরনের পণ্য উঠছে, তার একটি চমকপ্রদ নমুনা পাওয়া গেছে যশোরের কেশবপুরে। রাত দিন নিউজ জানিয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেশবপুর শহরের গমপট্টি এলাকার 'ইত্যাদি স্টোর'-এ ভেজাল শিশুখাদ্য বিক্রি ও মজুতের অভিযোগে হানা দেয় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্বপন কুমার দাসকে সরাসরি ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে এমন ভেজালের ঘটনা যে কোনো অভিভাবকের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ।

ঢাকায় ৬ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা, কী ছিল অপরাধ?

আমার সংবাদ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অসংসংগঠিত ও মানহীন খাদ্যপণ্য রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়। বিএফএসএ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এই জরিমানা আদায় করা হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা পর্যায়েও এই কার্যক্রম সমান তালে চলছে।

খাবারের দোকান বা মুদির দোকান থেকে কিছু কেনার আগে পণ্যের মেয়াদ ও মোড়কের অবস্থা দেখে নেওয়ার কথা বারবার বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শিশুদের সিরিয়াল, বিস্কুট বা দুধজাতীয় পণ্য কেনার সময় ভোক্তাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে বলে কেশবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে।

ভর্তুকি মূল্যের ডাল আসছে টিসিবির মাধ্যমে

ভেজাল ঠেকানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালে মানসম্মত খাবার পৌঁছে দিতে সরকারি পর্যায়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একটি বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ডাল সংগ্রহ করা হবে, যার পেছনে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মিত খাদ্যপণ্য বিতরণ কার্যক্রমে এই ডাল ব্যবহার করা হবে। বাজারে ভেজালের ভিড়ে সরকারি উৎস থেকে নিশ্চিত মানের খাদ্যপণ্য পাওয়াটা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।

খাবার কেনার আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?

সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলোর প্রেক্ষাপটে সাধারণ ক্রেতাদের কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ (Expiry Date) এবং উৎপাদনের তারিখ অবশ্যই পড়তে হবে। মোড়ক ছেঁড়া, বিবর্ণ বা সিল ভাঙা থাকলে সেই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।

শিশুখাদ্যের ক্ষেত্রে বিএসটিআই বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের লোগো আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। কেশবপুরে ইত্যাদি স্টোরের মতো প্রতিষ্ঠানে ভেজাল শিশুখাদ্য ধরা পড়ার ঘটনা দেখিয়ে দেয়, পরিচিত দোকান হলেও চোখ বন্ধ করে কেনাকাটা করা ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো পণ্য নিয়ে সন্দেহ হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়।