পাশের বাড়ির একটি ছেলে সারাদিন মোবাইলে বসে থাকে। কাজে যায় না, কোথাও যায় না। অথচ মাস শেষে দেখা যায় ভালোই চলছে। জিজ্ঞেস করলে বলে অনলাইনে কাজ করি।

এই কথাটা এখন আর শুধু শহরে না, গ্রামেও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ জানেন না আসলে কী করে এই ছেলেগুলো আয় করছে। অনেকে ভাবেন নিশ্চয়ই কোনো প্রতারণা আছে। আসলে কোনোটাই না।

সত্যিটা হলো স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলে আজকের দিনে ঘরে বসেই আয় করা সম্ভব। শুধু জানতে হবে কোথায় শুরু করতে হবে।

  • ফেসবুক পেজ থেকে আয়

বাংলাদেশে এখন হাজার হাজার মানুষ ফেসবুক পেজ থেকে আয় করছেন। ফেসবুকের নিজস্ব মনিটাইজেশন সিস্টেম আছে যেখানে আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় আর সেই বিজ্ঞাপনের একটা অংশ আপনি পান।

একটা ফেসবুক পেজ খুলুন। রান্না, কৃষি, স্বাস্থ্য, ইসলামিক কথা, মজার ঘটনা — যেটা ভালো জানেন সেটা নিয়েই ভিডিও বানান। পেজে পাঁচ হাজার ফলোয়ার আর ৬০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম হলে মনিটাইজেশনের আবেদন করতে পারবেন। একটা মাঝারি পেজ থেকে মাসে পাঁচ থেকে পনের হাজার টাকা আয় করা কঠিন না।

  • ইউটিউব

ইউটিউব হলো এমন একটা জায়গা যেখানে একটা ভিডিও বানিয়ে রাখলে বছরের পর বছর আয় হতে থাকে। এক হাজার সাবস্ক্রাইবার আর চার হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম হলে মনিটাইজেশন চালু হবে। দামি ক্যামেরা লাগে না, স্মার্টফোনই যথেষ্ট।

ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং মানে বিদেশি কোম্পানির কাজ ঘরে বসে করে ডলারে আয় করা। গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ডেটা এন্ট্রি, কনটেন্ট রাইটিং — এই কাজগুলো শিখলে দ্রুত আয় শুরু করা যায়। Fiverr আর Upwork হলো সবচেয়ে বড় দুটো প্ল্যাটফর্ম যেখানে কাজ পাওয়া যায়।

নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে আয়

এটা নিয়ে অনেকে ভাবেন না। অথচ নিজের একটা ওয়েবসাইট থাকলে আয়ের রাস্তা অনেক বেড়ে যায়। ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স লাগালে ভিজিটর আসলেই আয় হয়। অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা যায়। নিজের সেবা বা দক্ষতা বিক্রি করা যায়। একটা ভালো ওয়েবসাইট মাসে হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে, নির্ভর করে কতটা পরিশ্রম করছেন তার উপর।

অনেকে ভাবেন ওয়েবসাইট বানানো অনেক কঠিন, কোডিং জানতে হয়। আসলে এখন আর সেটা লাগে না। তবে যদি নিজে না পারেন তাহলে একজন বিশ্বস্ত ফ্রিল্যান্সারের কাছ থেকে বানিয়ে নিতে পারেন।

এরকমই একজন বিশ্বস্ত ফ্রিল্যান্সার হলেন রাজিব। দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইট তৈরির কাজ করছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে ওয়েবসাইট বানিয়ে এখন ভালোভাবে আয় করছেন। যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে — 01981372860। কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন, বাজেট অনুযায়ী সমাধান দেবেন।

  • কোথা থেকে শুরু করবেন

সবকিছু একসাথে শুরু করতে যাবেন না। আগে ঠিক করুন কোন কাজটা আপনার জন্য সহজ মনে হচ্ছে। রান্না জানলে ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করুন। কথা বলতে ভালো লাগলে ইউটিউব করুন। কম্পিউটার চালাতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং শিখুন। আর দীর্ঘমেয়াদে আয় করতে চাইলে একটা ওয়েবসাইট বানান।

সময় লাগবে। প্রথম মাসে হয়তো এক টাকাও আয় হবে না। কিন্তু থেমে গেলে কখনোই হবে না।

এই লেখাটা কাজে লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। হয়তো একজনের জীবন বদলে যেতে পারে।