সোনারগাঁ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল।

 মধ্যমযুগে এটি বাংলার অন্যতম রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সেই সময়ের যে শহরগুলো ছিল সেগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতো । মুরুব্বীদের মতে, একটা সময় ছিল যে সময় এই অঞ্চলে দেশি-বিদেশী ব্যাবসায়ীরা নিয়মিত আসতেন  বিশেষ করে বিখ্যাত মসলিন কাপড়, রেশম এবং বিভিন্ন দামি পণ্যেগুলোর জন্য।সে সময় সোনারগাঁও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মোটামুটি ভালো একটা অবস্থানে ছিল যা বর্তমানে ইতিহাস হয়ে রয়েছে । এখানে রাজপ্রাসাদ, প্রশাসনিক ভবন, এবং বড় বড় বাণিজ্যিক বাজার ছিল বলে শুনা যায়। যোগাযোগের ব্যবস্থা আগের থেকে বেশি উন্নত হওয়ায় সেটি ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও আরব, পারস্য ও ইউরোপের ব্যবসায়ীরাও এখানে আসতেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

সময় যত পরিবর্তন হয়েছে তার সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র গুলো দিয়েদেওয়ার কারণে ধীরে ধীরে সোনারগাঁয়ের গুরুত্ব কমে যেতে শুরু করে।

 এক সময়ের সমৃদ্ধ রাজধানী হারাতে থাকে তার পুরনো গৌরব ও ঐতিহ্য এবং ধীরে ধীরে এটি একটি সাধারণ অঞ্চলে পরিণত হয়ে যায়।

বর্তমানে Bangladesh-এর নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত সোনারগাঁ একটি  ঐতিহাসিক পর্যটনের জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে এখনো পুরোনো স্থাপত্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং জাদুঘরগুলো রয়েছে, যা আজও সেই গৌরবময় ইতিহাস গুলোর সাক্ষী রয়েছে । 

বিশেষ করে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, সোনারগাঁ শুধু একটি প্রাচীন শহর নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং সভ্যতার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এখানে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন প্রমাণ করে যে, এক সময় এই অঞ্চল ছিল অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সোনারগাঁ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও গৌরবময় অতীতকে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।