জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে এখন সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা। নিউ ইয়র্কে চলতি এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একের পর এক রাষ্ট্রনেতা সিরিয়ার ভেতরে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান আক্রমণ ও সীমান্ত অতিক্রম করে সেনা উপস্থিতির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। বিগত কয়েক মাস ধরে দামেস্কের বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক নতুন ও আশঙ্কাজনক মোড়ে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা ও বাফার জোন অতিক্রমের চিত্র

সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার পটপরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ইসরায়েল তাদের সামরিক তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। দামেস্কের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি এমনকি সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

শুধু আকাশপথ নয়, মাটিতেও সীমানা ছাড়িয়েছে তারা। ১৯৭৪ সালের ‘ডিসএনগেজমেন্ট চুক্তি’ (Disengagement Agreement) কার্যত উপেক্ষা করে ইসরায়েল বাফার জোন অতিক্রম করেছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূখণ্ডে নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও বিস্তৃত করার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শেষ মুহূর্তে কেন ভেস্তে গেল ৯০ শতাংশ সমঝোতা?

কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে দুই দেশের মধ্যে যে গোপন আলোচনা চলছিল, তা শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে। জাতিসংঘের পার্শ্বমঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা (Ahmed al-Sharaa) এই ব্যর্থতার পেছনের চিত্র তুলে ধরেন।

নিরাপত্তার ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে ইসরায়েলের সাথে আমাদের প্রায় ৯০ শতাংশ সমঝোতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে ইসরায়েল অতিরিক্ত কিছু শর্ত আরোপ করে চুক্তি থেকে সরে আসে এবং এরপরই বিমান হামলা আরও জোরদার করে।

আল-শারার এই বক্তব্য প্রমাণ করে, কূটনীতির টেবিলে আপাত সাফল্যের পরও কীভাবে সামরিক আগ্রাসন সব সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিতে পারে। সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ঠিক পরপরই সিরিয়ার মাটিতে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাত্রা বেড়ে যায়।

জাতিসংঘের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের মূল মণ্ডপে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতারা ইসরায়েলি সামরিক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে তারা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বক্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই ধরনের একতরফা সামরিক অভিযান কেবল সিরিয়া নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৮১তম অধিবেশনে উঠে আসা এই তীব্র প্রতিক্রিয়াগুলো বোঝাচ্ছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে।