বর্তমান সময়ে যত বেশি দিন যাচ্ছে দিনের সাথে সাথে ডেঙ্গুর সংখ্যা আগের থেকে আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আমরা এই ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে পারি কিভাবে আমরা এই ডেঙ্গু থেকে আমাদের পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের বাঁচাতে পারি।
- ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে চাইলে এই ৫টি কাজ আজই শুরু করুন — ডাক্তাররা যা বলছেন
দেশে আবারও ডেঙ্গুর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে এটি যে শুধু শহরে সীমাবদ্ধ রয়েছে তা কিন্তু নয় এটি বর্তমানে গ্রাম অঞ্চলগুলো তেউ ছড়িয়ে গেছে অনেক বেশি যা অনেক বেশি ভয়ংকর ।
এখন বর্তমানে অনেক পরিবার আছে যারা এখনো পর্যন্ত বুঝতে পারছেন না এটা কোথা থেকে আসছে বা এটার জন্য কি করা উচিত । বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র সামান্য হালকা সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার পুরো পরিবারকে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে। কিন্তুু সমস্যা হলো, বেশিরভাগ মানুষই সঠিক তথ্য না জানার কারণে বড় বিপদে পড়ছেন।
---
ডেঙ্গু আসলে কতটা বিপজ্জনক?
ডেঙ্গু জ্বর গুলা আসলে এডিস নামক মশার কামড় থেকে চড়াই ।
সাধারণ জ্বর
তীব্র মাথাব্যথা
চোখের পেছনে ব্যথা
শরীরে র্যাশ
এগুলো হলো প্রাথমিক লক্ষণ। দেখতে সাধারণ মনে হলেও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে পরিণত হতে পারে, যা সরাসরি প্রাণঘাতী।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বর্ষার পরপরই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে লাফিয়ে বেড়ে যায়। অনেক পরিবার প্রস্তুত না থাকায় এবং সঠিক তথ্য না জানায় মারাত্মক বিপদে পড়ছেন। শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রেয়েছে কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কমহয়।
স্বাস্থ অধিদপ্তরে তথ্যে বলছে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু ঢাকাতেই নয়, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা সহ সারা দেশেই এখন ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এটিকে শুধু শহরের রোগ মনে করলে ভুল হবে।
---
যে ৫টি কাজ এখনই করতে হবে
১. বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না
ফুলের টব, বালতি, পুরনো টায়ার, ছাদের কোণে জমে থাকা পানি, ভাঙা মাটির পাত্র — এগুলোই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। এডিস মশা পরিষ্কার স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন এবং পানি ফেলে দিন। মনে রাখবেন, মাত্র একটি ছোট পাত্রের জমা পানিই শত শত মশার জন্ম দিতে পারে এবং সেখান থেকে পুরো পাড়ায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে যেতে পারে।
২. দিনের বেলায়ও মশারি ও রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন মশার আগমন শুধু রাতে হয়। কিন্তু এডিস মশা সকাল ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই দিনের বেলায় ঘুমালেও অবশ্যই মশারি টাঙান। শিশু ও বয়স্কদের জন্য মশা প্রতিরোধী ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করুন। লম্বা হাতার পোশাক পরুন, বিশেষত সকাল ও বিকেলে বাইরে গেলে।
৩. জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান, দেরি করবেন না
অনেকে জ্বর হলে নিজে নিজে প্যারাসিটামল খেয়ে দুই-তিন দিন অপেক্ষা করেন। ভাবেন এমনিতেই সেরে যাবে। এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি মানুষকে বিপদে ফেলে। জ্বরের প্রথম দিনেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রক্ত পরীক্ষা করান। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কাউন্ট দ্রুত কমতে শুরু করে, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু জ্বর তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, কিন্তু এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
৪. প্রচুর পানি ও তরল খাবার খান
ডেঙ্গু জ্বরে শরীর অত্যন্ত দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এই সময় ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, তাজা ফলের রস, ডালের স্যুপ নিয়মিত খান। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। পানিশূন্যতা ডেঙ্গুর জটিলতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনি ও লিভারের উপর মারাত্মক চাপ ফেলে। পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে বলে অনেক চিকিৎসক পরামর্শ দেন, তবে এটি মূল চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে।
৫. ইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন একদম খাবেন না
ডেঙ্গু জ্বরে অনেকে ব্যথা বা জ্বর কমাতে ইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খান। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ভুল। এই ওষুধগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ডেঙ্গু রোগীর জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। শুধুমাত্র প্যারাসিটামল, তাও চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী খান।
কখন হাসপাতালে যাবেন?
নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি না করে হাসপাতালে যান —
- - পেটে তীব্র ও অসহ্য ব্যথা অনুভব করলে
- - বারবার বমি হতে থাকলে এবং কিছু খেতে না পারলে
- - দাঁতের মাড়ি, নাক বা শরীরের যেকোনো জায়গা থেকে রক্ত পড়লে
- - শরীরে লাল দাগ বা র্যাশ দেখা দিলে
- - শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে
- - অতিরিক্ত দুর্বলতা বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে
- - প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে গেলে
এই লক্ষণগুলো মানে ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণ করেছে। এই পর্যায়ে ঘরে বসে চিকিৎসা করানো উচিত নয়।
---
শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
শিশুরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অনেক সময় সব লক্ষণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। শিশু যদি হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়, অনেক বেশি কাঁদে, ঘুমের মধ্যে অস্থির হয়ে পড়ে বা শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু দ্রুত জটিল হয়ে যেতে পারে, তাই সময় নষ্ট করা যাবে না।
---
পরিবার ও প্রতিবেশীকে সচেতন করুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সচেতনতা। শুধু নিজে জানলেই হবে না, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাইকে জানান। একটি পরিবার অসচেতন থাকলে পুরো এলাকায় মশা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এলাকার মসজিদ, স্কুল বা কমিউনিটি সেন্টারে সচেতনতামূলক আলোচনার উদ্যোগ নিন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদকে জানান যেন এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পূর্ণ সম্ভব। শুধু দরকার সঠিক তথ্য, সময়মতো পদক্ষেপ এবং পরিবারের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন। আজই উদ্যোগ নিন, সুস্থ থাকুন।
---
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) | ঢাকা মেডিকেল কলেজ
এই নিউজটি উপকারী মনে হলে আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং সবাইকে সচেতন করুন।
মন্তব্য
0