কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আর কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো—এআই এবার সরাসরি ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ সম্পন্ন করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন কিছু আবিষ্কার ঘটছে যা আগে কেবল গবেষণাগারেই সম্ভব বলে মনে করা হতো। একজন সাধারণ ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সবার দৈনন্দিন জীবনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কীভাবে শুধু উত্তর না দিয়ে কাজ করছে?

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের তারিখেই প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআই মডেলগুলো এখন 'অ্যাক্ট' বা কাজ করার পর্যায়ে চলে এসেছে। আগের দিনগুলোতে আপনি হয়তো কোনো এআইকে বলতেন একটি ইমেইলের খসড়া লিখে দিতে, আর সে লিখে দিত। কিন্তু সেই খসড়া কপি করে মেইলে বসানো, সময় ঠিক করা কিংবা ক্যালেন্ডারে মিটিং সেট করার দায়িত্ব ছিল পুরোপুরি আপনার।

গত মাসে প্রকাশিত একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণে সাধারণ চ্যাটবট এবং এআই এজেন্টের মূল পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এআই এজেন্টকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিলে সে নিজেই ক্যালেন্ডার ঘেঁটে সময় বের করে, প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে, খসড়া তৈরি করে এবং আমন্ত্রণও পাঠিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, মানুষের নির্দেশনা পেলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এটি কেবল সময় বাঁচায় না, ছোটখাটো ভুলের হারও অনেক কমিয়ে দেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এআইয়ের নতুন আবিষ্কার কেন সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

মানুষের দৈনন্দিন কাজ সহজ করার পাশাপাশি বিজ্ঞানের জটিল গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আজ অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। আজই প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যানথ্রপিক নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডারিও অ্যামোডি ঘোষণা করেছেন যে তাদের এআই সিস্টেম ব্যাকটেরিওফাজ ডিএনএ-তে সম্পূর্ণ নতুন একটি এনজাইম সিস্টেম শনাক্ত করেছে।

এই এনজাইম সিস্টেমটি রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এর পাশে সিআরআইএসপিআর-এর মতো দেখতে একটি পুনরাবৃত্তিমূলক ডিএনএ অ্যারে রয়েছে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে, তবে জেনেটিক্স ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ আবিষ্কার বা জটিল রোগের চিকিৎসায় এই ধরনের এআই-নির্ভর গবেষণা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সাধারণ মানুষের কাজে এআই টুলগুলো কতটা সময় বাঁচাচ্ছে?

বড় গবেষণাগার বা প্রযুক্তি কোম্পানির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি কতটা কাজের, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় চলতি বছরের শুরুর দিকের পরিসংখ্যানে। গত মার্চ মাসে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফ্রিল্যান্সার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এআই টুল ব্যবহার করে তাদের কাজের গতি কয়েকগুণ বাড়িয়েছেন।

যে রিপোর্ট তৈরি করতে আগে আট ঘণ্টা সময় লাগত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা মাত্র এক ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। কাস্টমারের ইমেইলের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ—প্রতিটি ধাপে এআই এখন সহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। কয়েকদিন আগে প্রকাশিত একটি মতামত বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের স্বাভাবিক ভয় থাকলেও, ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় মানুষ সবসময় নতুন জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলেছে। থেমে যাওয়ার চেয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এখন থেকেই এই টুলগুলো ব্যবহার করা শুরু করবেন, আগামী কয়েক বছরে তারা পেশাগত জীবনে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পকাহিনি নয়, এটি এই মুহূর্তে মানুষের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও ব্যবহারযোগ্য একটি মাধ্যম।