৬৪ জেলায় বেকার যুবকদের জন্য দুয়ার খুলছে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণের: স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দেশের ৬৪টি জেলাতেই বেকার যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিষয়ক নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে দক্ষ আইটি জনবল তৈরি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করতেই এই সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো—জেলা পর্যায়ে থাকা শিক্ষিত ও আগ্রহী যুবকদের আন্তর্জাতিক আউটসোর্সিং বাজারের জন্য প্রস্তুত করা। কী কী শেখানো হচ্ছে: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ভিডিও এডিটিং এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। ব্যবহারিক জ্ঞান ও সাপোর্ট: কোর্সগুলোতে কেবল থিওরি নয়, বরং মার্কেটপ্লেসে (যেমন: Upwork, Fiverr) কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলে ক্লায়েন্টদের কাজ সম্পন্ন করতে হয় এবং পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে হয়, তা প্র্যাক্টিক্যালি শেখানো হয়। ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা: নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ও নাস্তার ভাতা ছাড়াও সফলভাবে কোর্স শেষ করার পর দক্ষদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ: গ্রামীণফোন একাডেমি ও প্রাতিষ্ঠানিক পার্টনারশিপ যুবসমাজকে প্রযুক্তির একদম নতুন ধারার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম ও আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে গ্রামীণফোন একাডেমি (GP Academy) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এআই (AI) ও আইটি ভিত্তিক উচ্চতর ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ফিউচার স্কিলস: প্রথাগত ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি বর্তমানে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), ডেটা অ্যানালিটিক্স, অটোমেশন এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২. আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম: মেধা ও আগ্রহ বিবেচনা করে তরুণদের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন আইটি স্কলারশিপের আওতায় এনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অ্যাডভান্সড আইটি কোর্স করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ৩. অনলাইন ও অফলাইন মডেল: যারা জেলা শহরে গিয়ে ক্লাস করতে অক্ষম, তাদের জন্য অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং হাইব্রিড মডেলে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি খাতের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী যুব সমাজকে যদি সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে দেশেই তৈরি হবে লাখ লাখ নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬৪ জেলায় এই ব্যাপ্তির প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন দেশের বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে করবে আরও শক্তিশালী। ভর্তি ও আবেদনের নিয়মাবলী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা নিজ নিজ জেলা যুব উন্নয়ন অফিসে যোগাযোগ করে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। প্রশিক্ষণে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স এবং প্রাথমিক কম্পিউটার বিষয়ক মৌলিক জ্ঞানের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ: তরুণের ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ
মন্তব্য
0